
বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা এ দুটো শব্দ আজ সমার্থক শব্দে রূপায়িত হয়েছে। যার মর্মার্থ হলো বর্তমান বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সারিতে অবস্থান নিচ্ছে সেটার রূপকার হলেন প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের পেছনে ফেলে সততায়, নিষ্ঠায় দেশপ্রেমে হয়েছেন শীর্ষ সৎ রাষ্ট্রপ্রধান। এটি যেমন শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক কৃতিত্ব, তেমনি বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসও এক্ষেত্রে তাকে এই সততার পালক মাথার মুকুটে শোভাবর্ধনের ক্ষেত্রে রেখেছে অনন্য অবদান। যে বিশ্বাস এবং আস্থা ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি রেখেছিল স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর। যার বিনিময়ে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছে। পেয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। একই রকমভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের মানুষ বুকে টেনে নেয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হতে পেরেছে। পেয়েছে বিশ্ব দরবারে আত্মমর্যাদা এবং অভূতপূর্ব বিষয় হলো যে, বাংলাদেশ আজ গোটা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত।
ইতিহাসের পাতায় পাতায় বিধৃত আছে যে , নেতাকে বিশ্লেষণী মনের অধিকারী হতে হবে, নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগের সামর্থ্য থাকতে হবে, পরিস্থিতি সামলাবার মতো মনের জোর, সাহস ও প্রজ্ঞা এবং সর্বোপরি দৃঢ়চেতা হতে হবে। এই হচ্ছে একজন সার্থক বা সফল নেতা কিংবা নেতৃত্বের। নেতৃত্বের যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষমতা না থাকে, প্রজ্ঞা ও সাহস না থাকে তাহলে সংকট তীব্র পর্যায়ে যায়। নেতৃত্ব যদি অর্বাচীনের মতো কারও পাতা ফাঁদে পা দেয় তাহলে তো তার পরিণাম ভয়াবহ হতে বাধ্য। নেতা জনগণকে নেতৃত্ব দেবে নাকি জনগণের নির্দেশ মতো চলবে এ এক বিতর্কই বটে! তবে যা সত্য তা এই যে, নেতৃত্বকে জনকল্যাণমুখী, ত্যাগী, সাহসী, বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী হতেই হবে। তা না হলে বিপদ পদে পদে ঘনীভূত হবে।
উপরোক্ত সবকটি গুণাবলী যে নেতার নামের সাথে পরিপূরক। তিনি হলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রুপকার জননেত্রী দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমসাময়িক বিশ্বে দেশরত্ন শেখ হাসিনা এমন এক রাষ্ট্রনায়ক যিনি কেবল বাংলাদেশের তৃতীয় দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বেই নিয়োজিত নন, তিনিই একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি টানা ৩৬ বছর ধরে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তার নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কর্তব্য সম্পাদন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন রূপায়নে বাঙালি জাতির ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতার রক্তে রঞ্জিত পিচ্ছিল ও বন্ধুর পথ ধরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন।
শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কান্ডারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন তার মেধা, সাহস ও সততার কারণে, বর্তমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক বলা হয় তাকে। বাঙালির জাতি সত্ত্বা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা নস্যাৎ করতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের সঙ্গে মহা উৎসাহে যোগ দিয়েছিল ক্ষমতালোভী ও সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজ। বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতি তখন ছিল অসহায়, নির্যাতিত, অপমানিত, নিপীড়িত। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙালির চিরশত্রু পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসকরা দেশকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভেতর ফেলে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে এক জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িক শাসন কায়েমের ভিত রচনা করে। কিন্তু সেই সব লোভী ও বিশ্বাস ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরাই হয়েছিল ঘাতক ও খুনী, তাই সেই ভীত শক্তিশালী হতে পারেনি। তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা চরিতার্থ করতে পারেনি। খুনী মোশতাক-জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার প্রয়াস চালিয়েছিল। এসব তো আমরা তো ইতিহাসের পাতায় দেখেছি। তাদের উচ্ছিষ্টভোগী লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গিয়েছে। বাঙালী বাংলাদেশ বিশ্বে তখন মাথা নীচু করেই ছিল। ক্যূ-পাল্টা ক্যূ, গুম ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সুশাসনকে বুটের তলায় নিস্পেষিত করে দুর্নীতি ও দু:শাসনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। একদিকে মুষ্টিমেয় উচ্ছিষ্টভোগীরা ধনী থেকে ধনী হচ্ছিল, আর একদিকে গরীব আরও গরীব হয়ে পড়ছিল। দারিদ্র -দুর্ভিক্ষ অভাব অনটনে মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ছিল। মুক্ত বাতাস নেবার মত পরিবেশ ছিল না দেশে।
প্রিয় নেত্রী, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অনেক গর্ববোধ করি। কারণ আপনি বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক। আল্লাহর রহমতে আজ আপনি বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের গর্ব, আমাদের অহংকার। বিশ্ব গণমাধ্যমে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন আরো বেশি জায়গা করে নিয়েছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী সব গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছেন। আপনার সম্পূর্ণ ত্যাগ, শ্রম ও আত্মবিশ্বাস এবং বাংলাদেশের জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করে আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ স্থান এবং বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীর কাছে অনুপ্রেরনামুলক।
আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এবং পূর্ণ আস্থা রাখি আপনার প্রতি। আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপে সব কালো ছায়া দূর হয়ে যায় কারন আপনি বাংলাদেশের প্রতিটি মাটি-কণা-আলো-বাতাস সম্পর্কে অবগত। আপনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা জাদুকরী নেতৃত্ব এবং আজকের বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক। তাই সর্বস্তরের জনগন আসুন দেশের গৌরবকে ধরে রাখতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আর যাতে কোনো দিন দেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে লড়াই করতে হবে। যারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা এখনও বাংলাদেশকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে না তাদের প্রতিহত করার একমাত্র হাতিয়ার আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী করা।
প্রিয় নেত্রীর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ হবে ‘ডিজিটাল’ সুখী উন্নত বাংলাদেশ। আমরা প্রস্তুুত বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সিপাহশালার হয়ে নৌকার ঘাঁটি গড়তে, আর শেখ হাসিনা হচ্ছেন সেই ঘাঁটির জাদুকরী যোগ্য মাঝি। ইনশাআল্লাহ্ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটের মাধ্যমে আবারো ‘শেখ হাসিনা’ ই হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লেখকঃ সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সদস্য।
